Blog Posts

শিশুস্বাস্থ্যে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর)- এর প্রভাব

বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্যে এ মুহূর্তে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর)।

যদি কারও শরীরে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ঘটে এবং সেই রোগ নিরাময়ে তিনি যদি চিকিৎসকের পরামর্শমত সঠিক পরিমাণে এবং পর্যাপ্ত সময় ধরে অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ না করেন তাহলে ব্যাকটেরিয়াগুলো পুরোপুরি ধ্বংস না হয়ে উল্টো আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। তখন এই ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে ওই অ্যান্টিবায়োটিক পরে আর কাজ করে না। অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগের পরেও ব্যাকটেরিয়ার এই টিকে থাকার ক্ষমতা অর্জনকে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স বলা হয়।

দেশে শিশুস্বাস্থ্যে চিকিৎসকদের জন্য বড় আশঙ্কা হয়ে দেখা দিচ্ছে রক্ত আমাশয়। রোগটির জীবাণুর (শিগেলা) বিরুদ্ধে এখন কাজ করছে না অধিকাংশ অ্যান্টিবায়োটিক। বিশেষ করে এতোদিন রোগটি নিরাময়ে প্রথম ও দ্বিতীয় জেনারেশনের যেসব অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে পরামর্শ দেয়া হতো, জীবাণুটি সেগুলোর প্রতিরোধী হয়ে উঠেছে।

রক্ত আমাশয়ের চিকিৎসায় বহুল ব্যবহৃত চারটি ওষুধের (সিপ্রোফ্লক্সাসিন, অ্যাজিথ্রোমাইসিন, মেসিলিনাম, সেফট্রিয়াক্সোন) বিরুদ্ধে এখন প্রতিরোধী শক্তি গড়ে তুলেছে শিগেলা। রক্ত আমাশয়ের জন্য প্রথম সারির অ্যান্টিবায়োটিক সিপ্রোফ্লক্সাসিনের বিরুদ্ধে ৭০ শতাংশ ক্ষেত্রেই জীবাণু তা সহ্য করতে শিখে গেছে। বিশেষ করে দেশের পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের চিকিৎসা করতে গিয়ে চিকিৎসকদের এমন পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে হচ্ছে বলে এক গবেষণায় উঠে এসেছে।

Figure: সিগেলোসিসজনিত রক্ত আমাশয়ে বহু ওষুধ প্রতিরোধিতার (Multi-drug resistance) শতকরা হার

‘Antimicrobial resistance in shigellosis: A surveillance study among urban and rural children over 20 years in Bangladesh’ শীর্ষক এক গবেষণায় এ পর্যবেক্ষণ উঠে আসে। গবেষণাটি যুক্তরাষ্ট্রের পাবলিক লাইব্রেরি অব সায়েন্সের বৈজ্ঞানিক জার্নাল ‘পলস ওয়ানে’ প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণাটি করেছেন আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি) ও যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স ব্লুমবার্গ স্কুল অব পাবলিক হেলথের ১৩ জন গবেষক। মূলত, রাজধানী ঢাকার মহাখালী ও চাঁদপুরের মতলবে আইসিডিডিআর,বি পরিচালিত হাসপাতালে ডায়রিয়াজনিত কারণে ভর্তি শিশুদের (পাঁচ বছরের কম বয়সী) মলের নমুনা পরীক্ষা করে গবেষণাটি করা হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্দেশনা অনুযায়ী, শিশুদের মধ্যে রক্ত আমাশয়ের জন্য অ্যান্টিবায়োটিকের প্রথম পর্যায়ের ওষুধ হলো সিপ্রোফ্লক্সাসিন। দ্বিতীয় সারির ওষুধ হলো মেসিলিনাম ও সেফট্রিয়াক্সোন। অ্যাজিথ্রোমাইসিন শুধু প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য দ্বিতীয় পর্যায়ের ওষুধ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। বছরে পাঁচ বছরের কম বয়সী সাড়ে চার লাখ শিশু বিশ্বব্যাপী শুধু ডায়রিয়ার কারণে মারা যায়। বেশির ভাগই সাব-সাহারা ও দক্ষিণ এশিয়ায়। শিশুদের রক্ত আমাশয় সিপ্রোফ্লক্সাসিন ও অ্যাজিথ্রোমাইসিন প্রতিরোধী হয়ে ওঠায় তা বহু ওষুধবিরোধী বা মাল্টি ড্রাগ রেজিস্ট্যান্সের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে আইসিডিডিআর,বি।

বিশেষজ্ঞরা পরীক্ষা করে দেখতে পান, ২০২০ সালের মধ্যে নগর ও গ্রামে প্রথম ও দ্বিতীয় জেনারেশনের অ্যান্টিবায়োটিকগুলো রক্ত আমাশয়ের জীবানুর বিরুদ্ধে নিম্নোক্ত শতকরা হারে প্রতিরোধী হয়ে উঠেছে।

অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ নগর গ্রাম
মেসিলিনাম ১৯% ৩৪ %
অ্যাজিথ্রোমাইসিন ৫১% ৫৫%
সিপ্রোফ্লক্সাসিন ৭২% ৮৪%
সেফট্রিয়াক্সোন ৮% ১২%

গবেষণা বলছে, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের অসুস্থতা ও মৃত্যুর হার বৃদ্ধির জন্য এ শিগেলা দায়ী। তবে সিগেলা বা রক্ত আমাশয় বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল প্রতিরোধী হয়ে উঠেছে। এতে হাসপাতালে ভর্তি থাকার সময় দীর্ঘায়িত হচ্ছে। জীবাণু অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালবিরোধী নতুন স্ট্রেইন তৈরি করছে। অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল প্রতিরোধের তীব্রতা দ্রুত কমানো না গেলে ২০৫০ সালের মধ্যে প্রতি ৩ সেকেন্ডে একজন মানুষ মারা যাবে।

আইসিডিডিআর,বি বলছে, ডায়রিয়ার জীবাণু শিগেলায় অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স গড়ে ওঠা খুবই উদ্বেগজনক। অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের ফলে প্রতি বছর লাখ লাখ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স বৃদ্ধি মানুষ ও গবাদিপশুর মধ্যে অ্যান্টিবায়োটিকের অপপ্রয়োগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানবসভ্যতার অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে উঠেছে। শুধু অ্যান্টিবায়োটিকের ক্ষেত্রে নয়, যেকোনো ওষুধের অতিমাত্রায় ও অপপ্রয়োগের ফলে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

আরো বিস্তারিতভাবে জানতে নিচের লিংকে ক্লিক করুন-

https://journals.plos.org/plosone/article?id=10.1371/journal.pone.0277574

 

 

 

এন্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স-বাংলাদেশ কতটা ঝুঁকিতে?

২০১৯ সালে ২০৪টি দেশের জন্য IHME (INSTITUTE FOR HEALTH METRICS AND EVALUATION) -এর গবেষনা প্রবন্ধ Global burden of bacterial antimicrobial resistance in 2019: a systematic analysis একটি ব্যাপক-ভিত্তিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রকাশ করেছে যে, এন্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর একটি প্রধান কারণ হয়ে উঠেছে।

‘এন্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স ’ বিশ্বব্যাপী একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। কারণ-

  • ২০১৯ সালে সারা বিশ্বে ঔষধ-প্রতিরোধী সংক্রমণ সংশ্লিষ্ট কারণে ৪.৯৫ মিলিয়ন মানুষ মৃত্যু বরণ করেছিলেন। এর মধ্যে সরাসরি এএমআর-এর কারণে ১.২৭ মিলিয়ন মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।
  • সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে শিশুরা। এএমআর-এ যাদের মৃত্যু হয়েছে তাদের প্রতি পাঁচ জনের মধ্যে একজন হচ্ছে শিশু। এদের বয়স পাঁচের নীচে।
Figure 1: Global number of deaths by GBD cause and those associated with AMR

বাংলাদেশের পরিস্থিতি কী?

  • ২০১৯ সালে বাংলাদেশে সরাসরি এএমআর-এর কারণে মৃত্যু হয়েছিল ২৬,২০০ জন মানুষের এবং এএমআর-এর সাথে সম্পর্কিত নানা অসুখে মৃত্যু সংখ্যা ছিল ৯৮,৮০০টি।
  • ২০৪টি দেশে এএমআর-এর সাথে যুক্ত প্রতি ১০০,০০০ জনসংখ্যার মধ্যে সর্বোচ্চ বয়স-প্রমিত মৃত্যুর হারে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩০তম।
Figure 2: Age-standardized mortality rate associated with AMR in 2019 for 204 locations
  • গ্লোবাল বারডেন অব ডিজিজেস-এর হিসাব অনুযায়ী দক্ষিণ এশিয়ার পাঁচটি দেশের মধ্যে বয়স-ভিত্তিক মৃত্যুর হারে বাংলাদেশ সর্বনিম্ন স্থানে রয়েছে।
  • বাংলাদেশে অন্যান্য রোগ যেমন- দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসকষ্টের রোগ, শ্বাসকষ্টের সংক্রমণ এবং যক্ষ্মা, মাতৃ-নবজাতক সমস্যা, ডায়াবেটিস, কিডনি রোগ এবং পরিপাক তন্ত্রের রোগে মৃত্যুর সংখ্যার চেয়ে এএমআর-এ মৃত্যুর সংখ্যা বেশি।
Figure 3: Placing AMR in context with other causes of death in 2019, Bangladesh
  • এএমআর-এ সরাসরি মৃত্যুর ক্ষেত্রে এদেশে মোট পাঁচটি জীবানুর উপস্থিতি রয়েছে: স্টেফাইলোকক্কাস অরিয়াস (১৫,৫০০), ই.কোলাই (১৫,১০০), ক্লেবসিয়েলা নিউমোনি (১৩,৯০০), সিউডোমোনাস এরুজিনোসা (৯,৩০০), এবং সালমোনেলা টাইফি (৮,১০০)।
  • এএমআর-এ মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে নিউমোনিয়ার মতো শ্বাসতন্ত্রের নিম্নভাগের সংক্রমণ এবং রক্তের সংক্রমণকে। রক্তের সংক্রমণ থেকে সেপটিসিমিয়া হতে পারে।

এমএমআর কান্ট্রি সেলফ-এসেসমেন্ট সার্ভে (ট্র্যাকস) অনুযায়ী বাংলাদেশে এএমআর কার্যক্রমের জাতীয় কর্ম পরিকল্পনা রয়েছে এবং এজন্য বাজেট সংস্থান রয়েছে। এই পরিকল্পনাটির বাস্তবায়ন তদারকি এবং মূল্যায়নের জন্য স্থায়ী ব্যবস্থা থাকতে হবে। বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিশ্চিত করার জন্য এই তথ্য-উপাত্ত ব্যবহার করতে হবে।

আরো বিস্তারিতভাবে জানতে নিচের লিংকে ক্লিক করুনঃ

https://www.healthdata.org/research-analysis/health-risks-issues/antimicrobial-resistance-amr

গবেষণার ফলাফলঃ বাংলাদেশে গুড ফার্মেসি প্র্যাকটিসের প্রচলন

বিশ্বের যেকোন স্বাস্থ্যসেবায় ঔষধের ব্যবহার ভিষন গুরুত্বপূর্ণ হলেও প্রায়শই বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় এর ভূমিকা অবমূল্যায়িত। রোগ নির্ণয় থেকে শুরু করে, চিকিৎসা, এবং সুস্থ্য থাকার মত প্রাত্যহিকতায়ও সঠিক এবং কার্যকর ঔষধের ব্যবহার অনস্বিকার্য। প্রচলিত ধারনায় ঔষধের মান শুধুমাত্র ঔষধ তৈরির কাচাঁমাল বা প্রস্তুতকারকের মানের উপর নির্ভরশীল অথচ ঔষধের কার্যকারিতা প্রকৃতপক্ষে নির্ভর করে সাপ্লাইচেইনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত। সাপ্লাইচেইনের শেষ ধাপটি রোগী হলেও, একমাত্র রোগীর হাতে ঔষধ পৌঁছানটা এখানে শেষ কথা নয় বরং রোগী সঠিক সময়ে, সঠিক ডোজে, সঠিক মাত্রায়, সঠিক ঔষধ গ্রহন করছেন কিনা তার উপর নির্ভর করে। একটি ভালোমানের ঔষধ সঠিকভাবে সংরক্ষিত না হলে তার মান নষ্ট হতে থাকে এবং কার্যকরিতা হারায়। ফার্মেসিতে যেমন ঔষধ সঠিক মাননিয়ন্ত্রণ করে সংরক্ষন করতে হয় তেমনি রোগীকেও ব্যবহার্য ঔষধ সংরক্ষণ করতে হয় সঠিক ব্যবহারবিধি মেনে।

বাংলাদেশের ঔষধশিল্প সুপ্রতিষ্ঠিত এবং দেশ বিদেশের মাটিতেও বহুল সমাদৃত। কিন্তু বাংলাদেশের খুচরা/পাইকারী ঔষধ ব্যবস্থাপনার মান কতটা তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে যায়। ২০১৫ সালে বাংলাদেশ সরকার প্রথম খুচরা ঔষধের দোকানগুলোর সংখ্যা (প্রায় লক্ষ্য) এবং জনস্বাস্থ্যের উপর ঔষধের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে তাদের মানোন্নয়নে কাজ শুরু করে। বৃটিশ সরকারের অনুদানে বাংলাদেশে খুচরা ঔষধের দোকান ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ শুরু করে আর্ন্তজাতিক একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানম্যানেজমেন্ট সাইয়েন্সস ফর হেল্থএর বেটার হেলথ ইন বাংলাদেশ প্রকল্প। সরকারের উদ্দ্যোগে সাড়া দিয়ে খুচরা/পাইকারী ঔষধের দোকানগুলো কেমন হওয়া দরকার এবং কী করলে এসব দোকানে ঔষধ সঠিক মান সম্পন্ন থাকবে তার একটি মানদন্ড তৈরী করা হয়। তারা খুচরা ঔষধের দোকানগুলোকে দুটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করে যার একটি মডেল ফার্মেসি এবং অপরটি মডেল মেডিসিন শপ নামে নামকরণ করা হয়।

মডেল ফার্মেসি হওয়ার অন্যতম শর্ত হল মডেল ফার্মেসিতে একজন বিশ্ববিদ্যালয় গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্ট থাকবেন যার দায়িত্বে থাকবে পুরো ফার্মেসিটি। ফার্মেসির আয়তন হবে নূন্যতম ৩০০ বর্গফুট এবং থাকবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা।ঔষধ বিক্রয়ের সাথে রোগীকে ঔষধ সেবনের পদ্ধতি বলে দেওয়া এবং নিয়মিত সঠিকভাবে ঔষধ গ্রহণ করার জন্য কাউন্সিলিং করা হবে ফার্মাসিস্টএর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

মডেল মেডিসিন শপ মূলত বাংলাদেশের শহর এবং গ্রামাঞ্চলের সবত্র সঠিক ঔষধ সেবা নিশ্চিত করার জন্যে মডেল ফার্মেসি থেকে কিছুটা শিথিল শর্ত নিয়ে তৈরি। মডেল মেডিসিন শপের আয়তন নির্ধারণ করা হয়েছে নূন্যতম ১২০ বর্গফুট। গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্ট এর অপ্রতুল্যতার কারনে গ্রেড বি (ডিপ্লোমা) ফার্মাসিস্ট বা গ্রেডসি ফার্মেসি টেকনিশিয়ান থাকতে হবে। তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রনের জন্যে তাদের কিছু প্রস্তুতি রাখতে হবে যেমন, ফ্যান এবং একজস্ট ফ্যান। ঔষধ বিক্রয়ের সাথে রোগীকে ঔষধ সেবনের পদ্ধতি বলে দেওয়া এবং নিয়মিত সঠিকভাবে ঔষধ গ্রহণ করার জন্য কাউন্সিলিং করা মডেল মেডিসিন শপের ফার্মাসিস্টেরও অন্যতম দ্বায়িত্ব।

সম্প্রতি বেটার হেলথ ইন বাংলাদেশ প্রকল্প মডেল মেডিসিন শপে কর্মরত ফার্মেসি টেকনিশিয়ানদের উপর একটি জরিপ করেছে। যে সকল ফার্মেসি টেকনিশিয়ান প্রকল্পের মাধ্যমে মডেল মেডিসিন শপের মানদন্ডের উপর প্রশিক্ষণ পেয়েছে তাদের গুড ফার্মেসি প্র্যাকটিস বিষয়ক জ্ঞান যাচাই করাটাই ছিল জরিপের উদ্দেশ্য। বাংলাদেশের ৫টি জেলার ৫টি এলাকা (ঢাকা, চাঁদপুর, সিলেট, নাটোর এবং সাতক্ষীরা) থেকে মোট ২৫২ ফার্মেসিতে ২০২২ সালে জরিপটি করা হয়।

গবেষনার উল্লেখযোগ্য কিছু ফলাফল নিচে দেওয়া হলঃ

লাইসেন্স এবং নথিপত্রঃ সমস্ত খুচরা ঔষধের দোকানে ড্রাগ লাইসন্সে পাওয়া গেলেও জরিপের দিনে ১৫% লাইসেন্স মেয়াদোত্তীর্ণ পাওয়া যায়। শুধুমাত্র ৩৪.% ফার্মেসি টেকনিশিয়ান তাদের ফার্মেসি রেজিস্ট্রেসন দেখাতে পেরেছে, যা ঔষধের দোকানের ড্রাগ লাইসেন্স প্রাপ্তির জন্য বাধ্যতামূলক।

প্রেস্ক্রিপসন এবং অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রয়ঃ জরিপকৃত সমস্ত মেডিসিন শপ অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রয় করে তারমধ্যে এক তৃতীয়াংশ বলেছেন তারা প্রেস্ক্রিপসন ব্যতীত অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রয় করেন না। অধকিাংশ ফার্মেসি টেকনিসিয়ান (৫৪.%)রোগীদের অ্যান্টিবায়োটিকের র্কোস র্পূণ করার জন্য পরামর্শ দেন এবং ৯৪% ফার্মেসি টেকনিশিয়ান অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধ বিক্রয়ের জন্য একটি রেজিস্ট্রার খাতা রাখেন।

ঔষধ সংরক্ষণঃ যে সকল ঔষধের দোকান তাপমাত্রা সংবেদনশীল ঔষধ বিক্রয় করে তার প্রতিটি রেফ্রিজেটরে তাপমাত্রা সংবেদনশীল ঔষধ সংরক্ষণ করেন। কিন্তু রেফ্রিজেটরের তাপমাত্রা পরিমাপক থার্মোমিটার পাওয়া গেছে ৮৬% দোকানে। এই ৮৬% এর মধ্যে ৯৮% দোকান সঠিক তাপমাত্রায় ( ডিগ্রি) তাপমাত্রা সংবেদনশীল ঔষধ সংরক্ষণ করে। ৯৭.% ঔষধ দোকানরে মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ সংরক্ষনের জন্য একটি মুখবন্ধ কন্টেনার ব্যবহার করছে এবং ৮৯.% দোকান মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধের নাম একটি আলাদা রেজিস্ট্রার খাতায় লিপিবদ্ধ করছে।

জরিপটির শেষ প্রশ্নে জানতে চাওয়া হয়, বাংলাদেশে গুড ফার্মেসি প্র্যাকটিসপ্রচলন করার জন্য কোনও পরার্মশ আছে কি না। ৪৯.% উত্তরে বলেন, নিয়মিত প্রশক্ষিণ, অনিবন্ধিত ঔষধের দোকান বন্ধ করা (২৫.%), মনিটরিং জোরদারকরণ (২৪.%), জনসচেতনবৃদ্ধির জন্য প্রচারণামূলক অনুষ্ঠান করা (১৯.%), সকল ঔষধ এম. আর.পি তে বিক্রয় করা (১৩.%), ভালো প্র্যাকটিস করার জন্য পুরস্কার এবং অনিয়মের জন্য শাস্তির ব্যবস্থা করা (.%), মেয়াদহীণ ঔষধ সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা করা (.%) এবং রেজিস্ট্রেসন সনদ পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজিকরণ (.%) ইত্যাদি জানায়।

গবেষনার ফলাফল বিশ্লেষণ করে বলা যায় প্রশিক্ষণ এবং দিকনির্দেশণাপ্রাপ্ত খুচরা ঔষধের দোকানগুলো গুড ফার্মেসি প্র্যাকটিস শুরু করেছে। কিন্তু এটি বাংলাদেশের অধিকাংশ ঔষধের দোকানের চিত্র নয় যদিও নিয়মিত প্রশিক্ষণ,মনিটরিং, আইনপ্রয়োগ এবং প্রনোদনার মাধ্যমে অবস্থার ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব।

এন্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স- উপেক্ষিত মহামারী

আপনি জানেন কি?
ছোটখাটো অসুখে অ্যান্টিবায়োটিকের নির্বিচার প্রয়োগের ফলে মারাত্মক অসুখবিসুখের ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা অনেকখানি কমে যায়। আগে সাধারণ অসুখে পড়ে আরোগ্য হতো, এমন সব রোগে এখন মানুষ মারা যাচ্ছে।
অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণে ২০১৯ সালে সারা বিশ্বে ১২ লক্ষ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে বলে এক ব্যাপক-ভিত্তিক গবেষণা থেকে জানা যাচ্ছে। এইডস কিংবা ম্যালেরিয়াতে প্রতিবছর যত সংখ্যক লোক মারা যায়, এই সংখ্যা তার দ্বিগুণ বলে গবেষণার ফলাফলে জানা যাচ্ছে। দরিদ্র দেশগুলোতে সংক্রমণ পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ, বলছে এই গবেষণা। তবে অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স সবার স্বাস্থ্যের জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ।
এএমআর-এর কারণে বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর ওপর গবেষণার এই ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রখ্যাত সাময়িকী ল্যানসেটে। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ ওয়াশিংটনের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা ২০৪টি দেশে এই গবেষণা চালান।
জরিপের রিপোর্ট অনুসারে –
১) ২০১৯ সালে সরাসরি এএমআর-এর কারণে বিভিন্ন রোগে গেছে ১২ লক্ষ লোক। এর বাইরে, আরও ৫০ লক্ষ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে এএমআর-এর সাথে সম্পর্কিত নানা অসুখে।
২) একই বছর এইডস-এ মারা গেছে আট লক্ষ ৬০ হাজার মানুষ। আর ম্যালেরিয়ায় মারা গেছে ছয় লক্ষ ৪০ হাজার জন।
৩) এএমআর-এ মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে নিউমোনিয়ার মতো লোয়ার রেসপিরেটরি সংক্রমণ এবং রক্তের সংক্রমণকে, যেখান থেকে পরে সেপসিস হয়।
৪) এমআরএসএ (মেথিসিলিন রেজিস্টান্ট স্টেফাইলোকক্কাস অরিউস) ব্যাকটেরিয়াকে এই গবেষণায় বিশেষভাবে প্রাণঘাতী বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি সহ ইকোলাই এবং আরও কয়েকটি ব্যাকটেরিয়াও ওষুধ-প্রতিরোধী ক্ষমতা অর্জন করেছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
৫) বিভিন্ন দেশের হাসপাতাল এবং রোগীদের থেকে নেয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকরা দেখতে পেয়েছেন, সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে শিশুরা। এএমআর-এ মৃত্যু হয়েছে প্রতি পাঁচ জনের মধ্যে একটি হচ্ছে শিশু, যাদের বয়স পাঁচের নীচে।
গবেষণার ফলাফলের উল্লেখযোগ্য দুটি দিক:
১) সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে দক্ষিণ এশিয়া এবং সাহারা মরুভূমির দক্ষিণের দেশগুলোতে। এই অঞ্চলে প্রতি এক লক্ষ মানুষের মধ্যে মারা গেছে ২৪ জন।
২) সবচেয়ে কম মৃত্যু ঘটেছে বেশি আয়ের দেশগুলোতে। সেখানে প্রতি এক লক্ষের মধ্যে মারা গেছে ১৩ জন।
ইউনিভার্সিটি অফ ওয়াশিংটনের অধ্যাপক ক্রিস মারে বলেছেন, এই গবেষণায় সারা বিশ্বে অ্যান্টিবায়োটিকের প্রভাব কমে যাওয়ার প্রকৃত চিত্রটি ফুটে উঠেছে।
সর্বোপরি বিশেষজ্ঞরা এই পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পেতে ওষুধ নিয়ে গবেষণায় আরও বেশি অর্থ বিনিয়োগ করার পরামর্শ দিয়েছেন এবং বর্তমান যেসব অ্যান্টিবায়োটিক রয়েছে তা প্রয়োগে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে বলে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
আরো বিস্তারিতভাবে জানতে নিচের লিংকে ক্লিক করুন-
https://www.thelancet.com/journals/lancet/article/PIIS0140-6736(21)02724-0/fulltext

Tackling antimicrobial resistance in Bangladesh: A scoping review of policy and practice in human, animal and environment sectors

Background

Antimicrobial resistance (AMR) has become an emerging issue in the developing countries as well as in Bangladesh. AMR is aggravated by irrational use of antimicrobials in a largely unregulated pluralistic health system. This review presents a ‘snap shot’ of the current situation including existing policies and practices to address AMR, and the challenges and barriers associated with their implementation.

Methods

A systematic approach was adopted for identifying, screening, and selecting relevant literature on AMR situation in Bangladesh. We used Google ScholarPubmed, and Biomed Central databases for searching peer-reviewed literature in human, animal and environment sectors during January 2010-August 2019, and Google for grey materials from the institutional and journal websites. Two members of the study team independently reviewed these documents for inclusion in the analysis. We used a ‘mixed studies review’ method for synthesizing evidences from different studies.

Result

Of the final 47 articles, 35 were primary research, nine laboratory-based research, two review papers and one situation analysis report. Nineteen articles on human health dealt with prescribing and/or use of antimicrobials, five on self-medication, two on non-compliance of dosage, and 10 on the sensitivity and resistance patterns of antibiotics. Four papers focused on the use of antimicrobials in food animals and seven on environmental contamination. Findings reveal widespread availability of antimicrobials without prescription in the country including rise in its irrational use across sectors and consequent contamination of environment and spread of resistance. The development and transmission of AMR is deep-rooted in various supply and demand side factors. Implementation of existing policies and strategies remains a challenge due to poor awareness, inadequate resources and absence of national surveillance.

Conclusion

AMR is a multi-dimensional problem involving different sectors, disciplines and stakeholders requiring a One Health comprehensive approach for containment.

Read full article.

Community engagement: The key to tackling Antimicrobial Resistance (AMR) across a One Health context?

Antimicrobial resistance (AMR) is a One Health problem underpinned by complex drivers and behaviours. This is particularly so in low – and middle-income countries (LMICs), where social and systemic factors fuel (mis)use and drive AMR. Behavioural change around antimicrobial use could safeguard both existing and future treatments. However, changing behaviour necessitates engaging with people to understand their experiences. This publication describes a knowledge-exchange cluster of six LMIC-based projects who co-designed and answered a series of research questions around the usage of Community Engagement (CE) within AMR. Findings suggest that CE can facilitate AMR behaviour change, specifically in LMICs, because it is a contextualised approach which supports communities to develop locally meaningful solutions. However, current CE interventions focus on human aspects, and demand-side drivers, of AMR. Our cluster suggests that broader attention should be paid to AMR as a One Health issue. The popularity of mixed methods approaches within existing CE for AMR interventions suggests there is interdisciplinary interest in the uptake of CE. Unfortunately, the specificity and context-dependency of CE can make it difficult to evaluate and scale. Nevertheless, we suggest that in synthesising learnings from CE, we can develop a collective understanding of its scope to tackle AMR across contexts.   Read full article.